Summary
খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা- এই মৌলিক চাহিদার মধ্যে বস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। বস্ত্র বিভিন্ন তন্তু থেকে তৈরি হয় এবং এর বৈশিষ্ট্যও ভিন্ন হতে পারে। আমাদের জীবনে বস্ত্রের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তাই বস্ত্র ও পরিচ্ছদ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা থাকা জরুরি।
এই বিভাগ শেষে আমরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে তথ্যভিত্তিক ধারণা অর্জন করতে পারব:
- বস্ত্র ও পরিচ্ছদের ধারণা
- পোশাকের প্রয়োজনীয়তা
- পোশাকের বিবর্তনের ইতিহাস
- তন্তুর গুণাবলি
- বিভিন্ন তন্তুর বৈশিষ্ট্য
- তন্তুর শ্রেণিবিভাগ
- পোশাকের যত্নের পদ্ধতি
- পোশাক সংরক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তি
- সেলাইয়ের সরঞ্জামের ব্যবহার
- নির্দিষ্ট আকারের কাপড়ে বিভিন্ন স্টিচ প্রদান
খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা-এই পাঁচটি মৌলিক চাহিদার মধ্যে বস্ত্রের স্থান অন্যতম। বস্ত্র তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের তন্তু থেকে। নানা ধরনের উৎস থেকে প্রাপ্ত বয়ন তন্তুর বৈশিষ্ট্যও নানা ধরনের হয়ে থাকে। বিভিন্ন বয়ন তম্ভ বিভিন্ন আবহাওয়া ও পরিবেশের উপযোগী। আমাদের জীবনে বস্ত্রের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই বস্ত্র ও পরিচ্ছদ সম্পর্কে আমাদের সকলেরই প্রাথমিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।

এই বিভাগ শেষে আমরা-
- বস্ত্র ও পরিচ্ছদের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পোশাকের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পোশাক বিবর্তনের ইতিহাস বর্ণনা করতে পারব।
- তন্তুর গুণাবলি ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বিভিন্ন তন্তুর বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- তন্তুর শ্রেণিবিভাগ করতে পারব।
- পোশাকের দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মৌসুমি যত্ন নিতে পারব।
- আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তিতে নির্দিষ্ট স্থানে পোশাক-পরিচ্ছদ সংরক্ষণ করতে পারব।
- সেলাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারব।
- নির্দিষ্ট আকারের কাপড়ে টাক, রান, হেম, বখেয়া ইত্যাদি স্টিচ প্রদান করতে পারব।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মলি ও জলি দুই বান্ধবী গ্রীষ্মের দুপুরে বান্ধবীর বাবার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যায়। মলি পরেছিল হালকা আকাশি রঙের শাড়ি আর জলি পরে গাঢ় কমলা রঙের রেয়ন শাড়ি।
আমরা সবাই যে পোশাক পরিধান করে আছি, তা যে কাপড় থেকে প্রস্তুত করা হয় তাকেই বলে ফেব্রিক বা বস্ত্র। পোশাক পরিধানের জন্য ব্যবহৃত বস্ত্র সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- ওভেন ফেব্রিক ও নিটেড ফেব্রিক।
ওভেন ফেব্রিক
তাঁতে বয়ন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ায় এক সেট সুতা তাঁতে লম্বালম্বিভাবে সাজানো থাকে এবং আরো এক সেট সুতা আড়াআড়িভাবে চালনা করে বস্ত্র বোনা হয়। লংক্লথ, ভয়েল, পলিয়েস্টার, অর্গ্যান্ডি, জিন্স, গ্যাবার্ডিন ইত্যাদি হচ্ছে ওভেন ফেব্রিকের উদাহরণ।
নিটেড ফেব্রিক
হাতে বা মেশিনে নিটিং প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করা হয়। এক্ষেত্রে একটি সুতার লুপ বা ফাঁসের মধ্য দিয়ে আরও একটি ফাঁস তৈরি করে বস্ত্র প্রস্তুত করা হয়। নিটেড ফেব্রিকের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে টি-শার্টের কাপড়, হোসিয়ারির কাপড় ইত্যাদি।

নিচে এ ধরনের বস্ত্রের কয়েকটি গুণাবলি উল্লেখ করা হলো-একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ থাকতে হবে।
গঠন প্রকৃতি বিভিন্ন রকম হবে।
- শক্ত ও মজবুত হতে হবে।
- পরিধানে আরামদায়ক হতে হবে।
- টেকসই হতে হবে।
- উজ্জ্বল ও মসৃণ হতে হবে।
- জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা থাকতে হবে
- তাপ সহনশীল হতে হবে।
- সুন্দরভাবে ঝুলে থাকার ক্ষমতা থাকতে হবে।
বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রস্তুতকৃত এই বস্ত্রকে হেঁটে পরিধান ও ব্যবহার উপযোগী যা কিছু তৈরি করা হয় তাই হচ্ছে পরিচ্ছদ। অর্থাৎ তোমরা চুলের ফিতা থেকে পায়ের জুতা পর্যন্ত যা কিছু পরিধান করে আছ তা-ই পরিচ্ছদ।

বিভিন্ন ধরনের পরিচ্ছদ তৈরিতে বিভিন্ন ধরনের বস্ত্র প্রয়োজন হয়। যেমন- সালোয়ার, কামিজ, শার্ট মূলত তাঁতে বয়ন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বস্ত্র থেকে তৈরি করা হয়, অন্যদিকে নিটিং প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বস্তু থেকে তৈরি করা হয় গেঞ্জি, মোজা ইত্যাদি।
| কাজ- ১ বিভিন্ন ধরনের বস্ত্রের টুকরা সংগ্রহ করে কোনটি কোন ধরনের বস্ত্র তা দলগতভাবে নির্ণয় করো। কাজ- ২ তোমার কোন কোন ফেব্রিকের তৈরি পোশাক আছে তা শনাক্ত করে একটি তালিকা তৈরি করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পরিবারের জন্য পোশাক কিনতে শিউলি মার্কেটে গেলেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনে ভয়েল, পলিয়েস্টার ও জিন্স ইত্যাদি ফেব্রিকের কাপড় কিনলেন।
তোমরা গল্প পড়ে বা ছবি দেখে জেনেছ যে সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে পরিধানের উদ্দেশ্যও পরিবর্তিত হচ্ছে। যে সব কারণে মানুষ পোশাকের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো-
শালীনতা রক্ষা- সভ্য সমাজে লজ্জা নিবারণ ও শালীনতা রক্ষার উদ্দেশ্যেই মানুষ পোশাক পরে। এই শালীনতা রক্ষার জন্য মানুষ স্থানীয় সমাজ, সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুশাসন অনুসারে বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরিধান করে আসছে। এ কারণেই ইসলামিক পোশাকের সাথে জাপানিজ পোশাক কিংবা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের পোশাকের মধ্যে পার্থক্য দেখা দেয়।

স্বাস্থ্যরক্ষা- স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য পোশাকের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বাইরের ধুলাবালি, বিষাক্ত গ্যাস ও রোগ-জীবাণুর হাত থেকে রক্ষার জন্য আমরা পোশাক পরিধান করি। এছাড়া স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য অনেক সময় আমরা সাধারণ পোশাকের সাথে রুমাল, মাথায় টুপি, হাতে দস্তানা, মাস্ক, এপ্রোন ইত্যাদিও ব্যবহার করি।
আরামপ্রদান- তোমরা জানো বিভিন্ন ঋতুতে প্রকৃতি বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। তাই দেহকে আরাম প্রদানের জন্য বিভিন্ন ঋতুতে যেমন শীতকালে গরম পশমি পোশাক; গ্রীষ্মকালে ঢিলেঢালা হালকা পোশাক এবং ঝড়- বৃষ্টির সময় বিশেষ ধরনের পোশাক পরিধান করতে হয়।

পরিচিতি ও সামাজিক মর্যাদা- নিজ পেশা ও পরিচিতি সমাজে তুলে ধরার জন্য নানা ধরনের পোশাক পরতে হয়। তাই ডাক্তার, সৈনিক কিংবা নার্সদের পোশাক দেখলেই তাদের পেশা বোঝা যায়। খেলোয়াড়দের পোশাকের রং ও ডিজাইন দেখলেও দল শনাক্ত করা যায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পোশাক দেখলেও সে দেশ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়।

আত্মরক্ষা- প্রাচীনকালের মানুষেরা নানা প্রতিকূল অবস্থা ও পশু-প্রাণী থেকে আত্মরক্ষার জন্য দেহে আচ্ছাদন ব্যবহার করত। পরবর্তীতে মানুষ বাইরের আঘাত ও অনিষ্ট থেকে দেহকে নিরাপদে রাখার জন্য পোশাক পরিধান করে। যেমন- কলকারখানার শ্রমিকরা বিশেষ ধরনের পোশাক, হেলমেট ও জুতা পরিধান করে; নার্স, ডাক্তার ও রসায়নবিদরা রোগ-জীবাণু ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য নিরাপত্তামূলক পোশাক যেমন- এপ্রোন, মাস্ক ও দস্তানা পরে; অগ্নি প্রতিরোধক সংস্থার কর্মীরা গায়ে যেন আগুন না লাগে সেজন্য এসবেসটস তন্তুর তৈরি পোশাক পরে; সৈনিকরা বুলেট প্রতিরোধক জ্যাকেট গায়ে দেয়; খেলোয়াড়রা দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য নিরাপত্তামূলক পোশাক ও আনুষঙ্গিক সজ্জা পরে; শিকারিরা আঁটসাঁট লম্বা প্যান্ট, ফুলশার্ট ও হাঁটু পর্যন্ত লম্বা জুতা, মাথায় হ্যাট পরে; ডুবুরিরা ভাসমান জীবন রক্ষাকারী জ্যাকেট ব্যবহার করে।

৬. সৌন্দর্য প্রকাশ- পোশাক হচ্ছে এমন একটি উপকরণ, যার মাধ্যমে ব্যক্তি খুব সহজেই নিজের সৌন্দর্য প্রকাশ করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে নির্বাচনটি সঠিক হতে হবে। সময় ও স্থান বুঝে মানানসই পোশাক পরলে ব্যক্তির সৌন্দর্য অনেক বেড়ে যায়।
কাজ- ১ আত্মরক্ষার জন্য কোন কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের পোশাক পরিধান করা উচিত তার একটি চার্ট দলগতভাবে উপস্থাপন কর। কাজ - ২ ছকের মাধ্যমে দেখাও যে কোন ঋতুতে কী ধরনের পোশাক পরিধান করতে হয়। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় রিপন। খেলার সময় তার দল একটি নির্দিষ্ট ধরনের পোশাক পরিধান করে।
তোমরা কি বলতে পারবে পোশাক কবে সৃষ্টি হয়েছিল? প্রকৃতপক্ষে কবে, কখন পোশাকের উৎপত্তি হয় তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ দেহে আচ্ছাদন ব্যবহার করে আসছে। আদিমযুগের মানুষেরা দেহে গাছের বাকল, পাতা, প্রাণীর চামড়া, পালক, অলংকার ইত্যাদি আচ্ছাদন হিসেবে ব্যবহার করত। সে যুগের মানুষেরা চামড়ার সাথে সংযুক্ত পা বা খুর দুটো গলার পেছন দিকে বেঁধে বুক ও পিঠ ঢেকে রাখত। চামড়া বড় হলে খুরগুলো গলা ও কোমরের কাছে এনে গিঁট দিয়ে রাখত। এ ধরনের ব্যবস্থা সুবিধাজনক ছিল না, প্রায়ই খুলে যেত।

ধীরে ধীরে মানুষ সেলাই করার কৌশল আবিষ্কার করে। মৃত পশুর শুকনো রগ দিয়ে সুতা এবং চিকন হাড় থেকে সুচ অবিষ্কার করে চামড়া সেলাই করে দেহ আচ্ছাদন করে। এরূপ পোশাক বেশ নিরাপদ ছিল। দেহে সেঁটে থাকত এবং খুলে যেত না। এর পর মানুষ শীত, গরম, বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাবার জন্য চামড়া সেলাই করে তাঁবু তৈরি করে। পরবর্তীতে চামড়া আরো প্রক্রিয়াজাত করে আরামদায়ক, উন্নত ও স্থায়ী পোশাক তৈরি করতে সক্ষম হয়।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের নিদর্শন থেকে দেখা গিয়েছে যে, প্রাচীনকালে চরকার প্রচলন ছিল। অর্থাৎ সে যুগেও সুতা কেটে মানুষ বস্ত্র তৈরি করত। তবে দেখা গিয়েছে যে, তখন বস্ত্রের জন্য মানুষেরা প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল ছিল। এরপর একসময় মানুষ প্রাকৃতিক উদ্ভিদ আঁশ, প্রাণীর চুল বা লোম, গুটিপোকার লালা ইত্যাদি থেকে সুতা বানিয়ে সেই সুতা দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে বস্ত্র তৈরি করে এবং উক্ত বস্ত্র ছেঁটে পোশাক সেলাই করা শুরু করে।
তোমরা খেয়াল করবে যে, সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে অনেক যন্ত্রপাতি, কলকারখানার আবিষ্কার হয়। ফলে শুধু প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল না থাকার জন্য মানুষ প্রাকৃতিক উপাদানের সাথে রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে অথবা এককভাবে রাসায়নিক উপাদান থেকে কৃত্রিম তন্তু আবিষ্কার করে এবং ঐ সুতা দিয়ে বস্ত্র বানিয়ে নানা ধরনের পোশাক বানাতে সক্ষম হয়। মানুষ যেহেতু সৌন্দর্যের অনুসারী তাই পোশাকের প্রতি মানুষের চাহিদা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। আর এ কারণেই বস্ত্র উৎপাদনে যেমন বৈচিত্র্য আসছে, তেমনি পোশাকের ডিজাইনেও নতুনত্ব লক্ষ করা যায়। তবে দেশ, কাল, ধর্মভেদে এই ডিজাইনে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
| কাজ- ১ : প্রাচীনকালের মানুষেরা পোশাক তৈরির জন্য কিসের উপর নির্ভরশীল ছিল তা শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
মামার সাথে নিতু জাদুঘরে বেড়াতে গেল। সে সেখানে আদিমযুগে ব্যবহার্য পোশাক দেখল এবং প্রাচীনকালের যন্ত্রে তৈরি পোশাকও দেখল। এর ফলে সে পোশাকের ক্রমবিকাশ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করল।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন:
১. আদিম কালে কী দিয়ে সুচ ও সুতা তৈরি করা হতো?
ক. লোহা ও তুলা
খ. লোহা ও রগ
গ. হাড় ও রগ
ঘ. ডাল ও পাতা
২. কোন ধরনের বস্ত্রের পানি শোষণ ক্ষমতা বেশি থাকে-
ক. ওভেন ফেব্রিক
খ. নিটেড ফেব্রিক
গ. নেটিং ফ্রেব্রিক
ঘ. ফেন্টিং ফেব্রিক
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং ৩ নং ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
মলি ও জলি দুই বান্ধবী গ্রীষ্মের দুপুরে বান্ধবীর বাবার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যায়। মলি পরেছিল হালকা আকাশী রঙের শাড়ি আর জলি পরে গাঢ় কমলা রঙের রেয়ন শাড়ি।
৩. পোশাক নির্বাচনে মলি যত্নশীল ছিল-
i. সময়ের দিকে
ii. সৌন্দর্যের প্রতি
iii. অনুষ্ঠানের প্রকৃতির প্রতি
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i. ii ও iii
৪. জলির নির্বাচিত পোশাকটি-
ক. অনুষ্ঠানের সাথে বেমানান
খ. অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক
গ. সঠিক রুচি বোধের পরিচায়ক
ঘ. সঠিক রং নির্বাচনের পরিচায়ক
সৃজনশীল প্রশ্ন
১. একদিন সোভা বান্ধবী রেবার বাসায় যাবে বলে নরম, আরামদায়ক ও ঢিলাঢালা পোশাক ইস্ত্রি করে। সোভা বান্ধবীর বাসায় পৌঁছানোর পর গল্প করতে যেয়ে বান্ধবী রেবা সোভাকে বলল, জামাটা ইস্ত্রি করিসনি? কেমন যেন কুঁচকে গেছে। উত্তরে সোভা বলে কাপড়টি ইস্ত্রি করেছি, তারপরও এ অবস্থা। রেবা বলে আমার জামাটা কিন্তু কুঁচকায় না, শোষণ ক্ষমতা বেশি।
ক. মানুষের জীবনে মৌলিক চাহিদা কয়টি?
খ. নার্সরা আত্মরক্ষার জন্য কী ধরনের পোশাক পরিধান করে বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকে সোভার পরিধেয় বস্তুটি কোন ধরনের- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সোভা ও রেবার পরিধেয় কাপড়ের বৈশিষ্ট্যগুলো তুলনামূলক আলোচনা করো।
২. ৭ বছর বয়সী রাহাত বাসায় বসে টেলিভিশনে খেলা দেখছিল। খেলোয়াড়দের নীল ও হলুদের পোশাকের মাঝে ফুটবলের ছবি দেখে রাহাত বলে বাবা ব্রাজিলের খেলা। রাহাতের বাবা জিজ্ঞাসা করল কিভাবে বুঝলে। সে বলে জার্সি দেখে। রাহাতের বাবা জিজ্ঞাসা করল বাংলাদেশের খেলোয়াড় চিনবে কিভাবে? রাহাত বলল কেন লাল-সবুজ জার্সি দেখেই। রাহাতের বাবা তখন বলেন পৃথিবীর সব দেশের পোশাক দেখলে সেই দেশের সংস্কৃতি ও সভ্যতা জানা যায়।
ক. নিটেড ফেব্রিক কী?
খ. আত্মরক্ষা কী? বুঝিয়ে বলো।
গ. পোশাকের প্রয়োজনীয়তার কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে রাহাত খেলেয়াড়কে শনাক্ত করতে পেরেছে?
ঘ. যেকোনো দেশের খেলোয়াড়দের পোশাক সেই দেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে, উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
একজন বয়ন শিল্পী শীতকালীন পোশাক তৈরির জন্য কৃত্রিম তন্তুর পরিবর্তে প্রাণিজ তন্তু ব্যবহারে আগ্রহবোধ করেন। কিন্তু বিলাসবহুল পোশাক তৈরিতে তিনি গুটি পোকার লালারস থেকে প্রাপ্ত তন্তু ব্যবহার করেন।
আমরা সবাই জানি, আমরা যে পোশাক পরিধান করি তা তৈরি হয় বস্ত্র থেকে। আপাতদৃষ্টিতে তোমাদের মনে হতে পারে যে, সুতা থেকে এই বস্ত্র উৎপাদন করা হয়। কথাটি সঠিক হলেও দেখা গিয়েছে যে, এই সুতা আবার তৈরি হয় কতকগুলো ছোট ছোট আঁশ থেকে। অনেক সময় এই ছোট ছোট আঁশ থেকেও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি বস্ত্র উৎপাদন করা হয়। বস্ত্র উৎপাদনে ব্যবহৃত যেসব তন্তুর নাম তোমরা সাধারণত শুনে থাকবে তাদের মধ্যে রয়েছে- তুলা তত্ত্ব, পাট তন্তু, রেশম তত্ত্ব, পশম তত্ত্ব, রেয়ন তত্ত্ব, নাইলন তত্ত্ব ইত্যাদি।

কাজেই তোমরা বলতে পার যে, পোশাক, বস্ত্র বা সুতা তৈরির উপযোগী আঁশগুলোকেই বলা হয় বয়ন তত্ত্ব।

| কাজ- ১ বয়ন তন্তু থেকে বস্ত্র তৈরির পর্যায়ক্রমিক ধাপগুলো লিপিবদ্ধ করে একটি চার্ট তৈরি করো। |
বয়ন তন্তুর গুণাবলীগুলো হচ্ছে-
বয়ন তন্তুর দৈর্ঘ্য প্রন্থের চেয়ে বড় হবে। তন্তু যত সূক্ষ্ম হবে, বস্ত্র ততই মসৃণ ও নমনীয় হবে।
বয়ন তন্তুর পর্যাপ্ত শক্তি থাকতে হবে। কারণ শক্তি না থাকলে এ ধরনের আঁশ দিয়ে সুতা বা বস্ত্র তৈরি করা যাবে না।
সুতা বা বস্ত্র যেহেতু পেঁচিয়ে বা ভাঁজ করে রাখতে হয় তাই বস্ত্রে ব্যবহৃত তত্ত্বকে অবশ্যই নমনীয় হতে হবে। এই বৈশিষ্ট্যের জন্যই বয়ন তন্তুতে পাক বা মোচড় দিয়ে সুতা তৈরি করা যায়।
ছোট ছোট আঁশগুলোর একে অপরের সাথে জড়িয়ে থাকার প্রবণতা থাকতে হবে।
তন্তুগুলো ভাঁজ করা বা মোচড়ানোর পর আগের অবস্থায় ফিরে আসার ক্ষমতা থাকতে হবে।
বয়ন তন্তুর মধ্যে নিজস্ব উজ্জ্বলতা থাকবে।
আর্দ্রতা শোষণ ক্ষমতা থাকতে হবে।
বয়ন তন্তুকে স্থিতিস্থাপক হতে হবে, অর্থাৎ টানলে বড় হবে, ছেড়ে দিলে আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে।
| কাজ- ১ কী কারণে যে কোনো প্রকার আঁশকে আমরা বয়ন তত্ত্ব বলতে পারি না তা উল্লেখ করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
রিফা আজ ক্লাসে বয়ন তন্তু সম্পর্কে পড়েছে। বাড়িতে এসে সে কয়েকটি পুরাতন পোশাক নিল। এরপর পোশাকগুলি থেকে তত্ত্ব বের করে তন্তুর বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে দেখল।
তোমরা আগের পাঠে জেনেছ যে, বস্ত্র তৈরি হয় তন্তু থেকে। প্রকৃতিতে পোশাক তৈরির উপযোগী বিভিন্ন ধরনের তন্তু ছড়িয়ে আছে। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার ফলে নানা ধরনের তন্তু আবিষ্কৃত হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের তন্তুর বৈশিষ্ট্য ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারণে তন্তুর শ্রেণিবিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এর ফলে একই শ্রেণিভুক্ত তন্তুগুলোর যত্ন, গুণাগুণ ও ব্যবহার সম্পর্কে তোমাদের সুস্পষ্ট ধারণা জন্মাবে।
উৎস অনুসারে বয়ন তত্ত্বকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- প্রাকৃতিক তন্তু ও কৃত্রিম তন্তু। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
১. প্রাকৃতিক তন্তু- তোমরা প্রকৃতিতে যেসব বয়ন তন্তু দেখতে পাবে তাই হচ্ছে প্রাকৃতিক তন্তু। এদের মধ্যেও শ্রেণিভেদ রয়েছে। যেমন-
ক) উদ্ভিজ্জ তন্তু- উদ্ভিদের বীজ, বাকল, কাণ্ড, পাতা ইত্যাদি থেকে উদ্ভিজ্জ তন্তু পাওয়া যায়। যেমন- কার্পাস গাছের বীজের বাইরের আঁশ থেকে তুলা তন্তু, পাট গাছের বাকল থেকে পাট তন্তু, ফ্ল্যাক্স গাছের কাণ্ড থেকে ফ্ল্যাক্স তন্তু, আনারসের পাতা থেকে পিনা তন্তু পাওয়া যায়।

খ) প্রাণিজ তন্তু- প্রাণীর চুল, লোম কিংবা লালা থেকে প্রাণিজ তন্তু পাওয়া যায়। যেমন- ভেড়ার লোম থেকে উল বা পশম তত্ত্ব এবং গুটি পোকার লালা থেকে পাওয়া যায় রেশম তন্তু।

গ) খনিজ তত্ত্ব- মাটির নিচের কঠিন শিলার স্তরে স্তরে এ ধরনের তন্তু পাওয়া যায়। খনিজ তন্তুকে পরিশোধিত করে সুতা উৎপাদন করা হয়। যেমন- এসবেসটস তন্তু থেকে উৎপাদন করা হয় এসবেসটস সুতা।

ঘ) রাবার তত্ত্ব- প্রাকৃতিক রাবারকেও বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংকোচন করে বিভিন্ন প্রকার তত্ত্ব ও সুতা তৈরি করা হয়।
২। কৃত্রিম তন্তু- তোমাদের জানা দরকার যে, অনেক তন্তু আছে যা প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়নি, মানুষ প্রাকৃতিক তন্তুর সাথে রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে কিংবা শুধু রাসায়নিক দ্রব্য থেকে অনেক তন্তু তৈরি হয়, যাদেরকে কৃত্রিম তন্তু বলে। যেমন- নাইলন, রেয়ন ইত্যাদি।

| কাজ ১। নিচের ছকের বাম দিকের কলামে বিভিন্ন শ্রেণির তন্তুর নাম দেওয়া আছে। প্রত্যেকের বিপরীতে ডান দিকের কলামে উক্ত শ্রেণির উদাহরণ উল্লেখ করে ছকটি পূরণ করো। |
| বিভিন্ন শ্রেণির তন্তু | উদাহরণ |
| উদ্ভিজ্জ তন্তু | |
| প্রাণিজ তন্তু | |
| খনিজ তত্ত্ব | |
| কৃত্রিম তন্তু |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
ঢাকায় অবস্থানরত মিনু গ্রামে বেড়াতে এলে তার দাদা তাকে একটি গাছ দেখিয়ে বললেন, এটি থেকে তুলা তন্তু পাওয়া যায়। এছাড়া তিনি তন্তুর প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করলেন।
যেহেতু আমাদের জীবনে বস্ত্রের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তাই কোন বস্ত্র কী ধরনের তত্ত্ব দিয়ে তৈরি এবং সেই তন্তুর বৈশিষ্ট্য কী সে সম্পর্কে আমাদের সকলের জানা দরকার। তোমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে ভৌত ও কর্ম বৈশিষ্ট্য কী? ভৌত বৈশিষ্ট্য বলতে তন্তুর আকার, শক্তি, স্থিতিস্থাপকতা, আর্দ্রতা শোষণ ক্ষমতা ইত্যাদি বোঝায়। অন্যদিকে কর্ম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তন্তুটির কার্যকরী দিক অর্থাৎ তন্তুটিকে বাস্তবজীবনে কী কাজে লাগানো যেতে পারে তাই হচ্ছে তার কর্ম বৈশিষ্ট্য। নিচে এ সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা হলো। পরবর্তী ক্লাসে এ সম্পর্কে তোমরা বিস্তারিত জানতে পারবে।
তুলা তন্তুর ভৌত ও কর্ম বৈশিষ্ট্য- কার্পাস গাছের বীজ থেকে তুলা তন্তু সংগ্রহ করা হয়। এদের উজ্জ্বলতা কম। টানলে বাড়ে না। বেশ শক্ত, ভিজলে এদের শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়। এই তন্তুর মধ্য দিয়ে তাপ চলাচল করতে পারে এবং এরা ভালো আর্দ্রতা শোষণ করতে পারে। তুলা তন্তু থেকে সুতি বস্ত্র উৎপাদন করা হয়। প্রতিদিনের পোশাক ছাড়াও উৎসবের পোশাক, খেলার পোশাক, পর্দা, টেবিল কভার ইত্যাদি তৈরিতে সুতি বস্ত্র ব্যবহৃত হয়।

ফ্ল্যাক্স তন্তুর ভৌত ও কর্ম বৈশিষ্ট্য-
ফ্ল্যাক্স তন্তুটি মসিনা গাছের কাণ্ড থেকে সংগ্রহ করা হয়। মসিনা গাছের উপরের ছালটি সরিয়ে নিলে এই তন্তুটি গাছের মাথা থেকে শিকড় পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এই তন্তুর তৈরি লিনেন বস্ত্র উজ্জ্বল, শক্ত, মজবুত এবং ভিজলে এদের শক্তি আরো বেড়ে যায়। এই তন্তুর মধ্য দিয়ে তাপ ভালো চলাচল করতে পারার কারণে গ্রীষ্মকালে ব্যবহারের জন্য এটা বেশ উপযোগী বস্ত্র। পরিধেয় পোশাক ছাড়াও টেবিল মোছার কাপড়, তোয়ালে ইত্যাদি তৈরিতে এই তন্তু ব্যবহার করা হয়।
রেশম তত্ত্বর ভৌত ও কর্ম বৈশিষ্ট্য- তোমরা জেনে রাখো যে, প্রাকৃতিক তত্ত্বর মধ্যে সবচেয়ে বড় তন্তু হচ্ছে রেশম তন্তু। গুটি পোকার লালারস থেকে রেশম উৎপাদিত হয়। রেশম খুবই মোলায়েম ও মজবুত তন্তু। রেশমের উজ্জ্বলতা সবচেয়ে বেশি। নিজস্ব উজ্জ্বলতার কারণে এই তন্তু থেকে উৎপাদিত রেশমি বস্ত্র বিলাসবহুল পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

পশম তন্তুর ভৌত ও কর্ম বৈশিষ্ট্য-
পশম একটি প্রাণিজ তন্তু। বিভিন্ন লোমশ প্রাণীর ত্বকের উপর গজানো পশম বা চুল থেকে শীত নিবারণের জন্য এ তন্তু সংগ্রহ করা হয়। পশুদের মধ্যে ভেড়ার লোমই পশমি বস্ত্রে বেশি ব্যবহার করা হয়। পানি শোষণক্ষমতা সবচেয়ে বেশি হলেও ভিজলে এদের আকৃতি ও শক্তি কমে যায়। এই তন্তুর মধ্য দিয়ে তাপ ভালো চলাচল করতে না পারার কারণে শীতকালের পোশাক হিসেবে মাফলার, সোয়েটার, শাল ইত্যাদি তৈরির জন্য এগুলো বেশ উপযোগী।

পশম তন্তুর ভৌত ও কর্ম বৈশিষ্ট্য-
পশম একটি প্রাণিজ তন্তু। বিভিন্ন লোমশ প্রাণীর ত্বকের উপর গজানো পশম বা চুল থেকে শীত নিবারণের জন্য এ তন্তু সংগ্রহ করা হয়। পশুদের মধ্যে ভেড়ার লোমই পশমি বস্ত্রে বেশি ব্যবহার করা হয়। পানি শোষণক্ষমতা সবচেয়ে বেশি হলেও ভিজলে এদের আকৃতি ও শক্তি কমে যায়। এই তন্তুর মধ্য দিয়ে তাপ ভালো চলাচল করতে না পারার কারণে শীতকালের পোশাক হিসেবে মাফলার, সোয়েটার, শাল ইত্যাদি তৈরির জন্য এগুলো বেশ উপযোগী।

| কাজ- ১ নিচের ছকের বাম দিকের কলামে বিভিন্ন প্রকার বস্ত্রের নাম উল্লেখ করা আছে। ডান দিকের কলামে এলোমেলোভাবে উৎসের নাম দেওয়া আছে। সঠিক উৎসটি তীরচিহ্নের সাহায্যে মিল করে দেখাও। |
| সুতি বস্ত্র | কয়লা, বায়ু, পানি |
| পশমি বস্ত্র | তুলা তন্তু |
| লিনেন বস্ত্র | গুটি পোকার লালারস |
| রেশমি বস্ত্র | ভেড়ার লোম |
| নাইলন বস্ত্র | তুলার আঁশ ও রাসায়নিক দ্রব্য |
| রেয়ন বস্ত্র | ফ্ল্যাক্স তত্ত্ব |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
কৃত্রিম তন্তুর বস্ত্র হালকা ও মজবুত হওয়ায় সে ফাল্গুনীর এ তত্ত্ব খুব পছন্দ। তবে ফাল্গুনীর পছন্দের কৃত্রিম তন্তু হচ্ছে নাইলন।
জামিল গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম থাকায় তাপ ভালো চলাচল করতে পারে এমন তত্ত্বর কাপড় দিয়ে জামা বানাল। এটি এক ধরনের গাছের কান্ড থেকে সংগৃহীত। এই তন্তুর তৈরি কাপড় উজ্জ্বল, মজবুত ও ভিজলে এদের শক্তি আরও বৃদ্ধি পায়।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. উৎস অনুসারে বয়ন তন্ত্রকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
ক. দুই ভাগে
খ. তিন ভাগে
গ. চার ভাগে
ঘ. পাঁচ ভাগে
২.মোজা হিসেবে ব্যবহারিত হয় কোন তত্ত্ব-
ক. পলিয়েস্টার
খ. নাইলন
গ. সুতি
ঘ. ফ্ল্যাক্স
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং ৩ নং ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
একজন বয়ন শিল্পী শীতকালীন পোশাক তৈরির জন্য কৃত্রিম তন্তুর পরিবর্তে প্রাণিজ তন্তু ব্যবহারে আগ্রহ বোধ করেন। কিন্তু বিলাসবহুল পোশাক তৈরিতে তিনি গুটি পোকার লালারস থেকে প্রাপ্ত তন্তু ব্যবহার করেন।
৩. বয়ন শিল্পী প্রাণিজ তন্তু বেছে নেওয়ার কারণ-
ক. পানিতে ভিজালেও এর আকৃতি অপরিবর্তিত থাকে
খ. তন্তুর মধ্য দিয়ে তাপ চলাচল করা কঠিন
গ. রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে বিভিন্ন তন্তু তৈরি হয়
ঘ. সব তন্তুর মধ্যে এই তত্ত্ব সবচেয়ে উজ্জ্বল।
৪. বিলাসবহুল পোশাক তৈরিতে উক্ত তন্তু বেছে নেওয়ার কারণ-
i. মিহিন সুতার কারণে তন্তুটি মোলায়েম
ii. সব ঋতুতেই উপযোগী
iii. এর নিজস্ব উজ্জ্বলতা আছে
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সৃজনশীল প্রশ্ন
১.

ক. উৎস অনুসারে বয়ন তন্তুকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
খ. কৃত্রিম তন্তু বলতে কী বুঝ?
গ. 'ক' চিত্রে ব্যবহারিত তন্তু সব মানুষ কেন বেশি ব্যবহার করে- ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ক ও খ চিত্রের তন্তুর মধ্যে কী কী সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায় তা লেখো।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
দরিদ্র সহপাঠী রানা অসুস্থতার কারণে বেশ কয়েকদিন যাবত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। বন্ধু জয় তার অন্যান্য সহপাঠীদের সহযোগিতায় রানার চিকিৎসার খরচ যোগাড় করে।
জেবা আলমারিতে তুলে রাখার জন্য তার সুতি শাড়িগুলো ধুয়ে মাড় না দিয়ে। হালকা ভেজা থাকতেই ইস্ত্রি করল।
সভ্য সমাজে আমরা সবাই পোশাক পরিধান করি। কিন্তু সঠিক উপায়ে সবাই পোশাকের যত্ন নিতে পারে না। তোমরা কি নিজেদের পোশাকের যত্ন নাও? কীভাবে পোশাকের যত্ন নেওয়া উচিত বলে তুমি মনে কর?
পোশাক পরিধানে ময়লা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ময়লা পোশাকটি সঠিক নিয়মে ধুয়ে, যথাযথ উপায়ে ভাঁজ করে, নির্দিষ্ট জায়গায় তুলে রাখাই হচ্ছে পোশাকের যত্ন। আবার সব সময় যে পোশাক পরিধান করলেই ময়লা হবে বা ধুতে হবে, এ ধারণা ঠিক নয়। এক্ষেত্রে ব্যবহারের পর অযথা ফেলে না রেখে যথাযথ উপায়ে ভাঁজ করে, নির্দিষ্ট জায়গায় তুলে রাখতে হবে। ব্যবহার করার ফলে যদি পোশাকটি ছিড়ে যায় বা পোশাকটিতে যদি দাগ লেগে যায়, তাহলে সেই ত্রুটি দূর করাও পোশাকের যত্নের অন্তর্ভুক্ত হবে।
পোশাক-পরিচ্ছদ কতটুকু সুন্দর দেখাবে এবং কতদিন টিকে থাকবে তা তোমার উপরই নির্ভর করবে। তুমি যদি তোমার পোশাক অযত্নে রাখো, তাহলে অনেক সময় দামি পোশাকও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে যাবে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হবে। পোশাকের যত্নকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১. পোশাকের দৈনিক যত্ন- প্রতিদিন পোশাকের যে যত্ন নিতে হয় তাই হচ্ছে পোশাকের দৈনিক যত্ন। তোমরা প্রতিদিন যে পোশাক পরিধান কর তা গোসলের সময় সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে এবং বাইরের ব্যবহৃত পোশাকগুলো ধোওয়ার প্রয়োজন না থাকলে রোদে শুকিয়ে যথাযথ স্থানে তুলে রাখতে পার। নতুবা প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে পাবে না।

| কাজ-১ তুমি কীভাবে পোশাকের দৈনিক যত্ন নিবে- ধারাবাহিকভাবে শ্রেণিতে উপস্থাপন করো। |
২. পোশাকের সাপ্তাহিক যত্ন- সপ্তাহের ছুটির দিনটিতে বোতাম লাগানোর প্রয়োজন থাকলে বোতাম লাগাবে, পোশাক ছেঁড়া থাকলে মেরামত করবে এবং নিজের পোশাক নিজে ধুয়ে ইস্ত্রি করে রাখবে। জুতা, ব্যাগ ইত্যাদি এই দিনেই পরিষ্কার করতে পার। পোশাকের সাপ্তাহিক যত্ন সংক্রান্ত কাজের সময় বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা রাখলে ভালো হয়। যেমন- গান শুনতে শুনতে এ কাজগুলো করলে কাজে ক্লান্তি আসবে না। পোশাকের সাপ্তাহিক যত্ন নিলে পরবর্তী সপ্তাহের পোশাকের জন্য তোমার কোনো চিন্তা থাকবে না।

৩. মৌসুমি যত্ন- আমাদের দেশ ষড় ঋতুর দেশ হলেও তিনটি ঋতুতে পোশাকের যে যত্ন নিতে হয় তাকেই মৌসুমি যত্ন বলে। তোমার পোশাকের মৌসুমি যত্ন তুমি নিজেই নিতে পারবে। এক্ষেত্রে গ্রীষ্মের শেষে পাতলা সুতির পোশাকগুলো ধুয়ে ইস্ত্রি করে নির্ধারিত জায়গায় তুলে রাখবে। বর্ষার শেষে কৃত্রিম তন্তুর পোশাকগুলো ধুয়ে যথাযথ জায়গায় ভাঁজ করে রাখলেই হয়, ইস্ত্রি করার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে শীতের শেষে পশমি সোয়েটার, জ্যাকেট, মোজা, মাফলার, টুপি ইত্যাদি পোশাক ধুয়ে অথবা ধোওয়ার প্রয়োজন না থাকলে রোদে শুকিয়ে আলগা ময়লা অপসারণ করে ভাঁজ করে উঠিয়ে রাখতে হয়। এতে করে পরবর্তী বছর পুনরায় নতুন করে পোশাক কিনতে হয় না এবং প্রয়োজনের সময় সব কিছু হাতের কাছে পাওয়া যায়।

| কাজ- ২ তোমার এক বন্ধু প্রায়ই ক্লাসে নোংরা পোশাক পরিধান করে আসে। কোনো কোনো সমর তার পোশাকে বোতাম, জিপার ছেঁড়া অবস্থায় দেখা যায়। তুমি এক্ষেত্রে তাকে কী পরামর্শ দিবে? |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পূর্বের পাঠে তোমরা পোশাকের যত্নের প্রয়োজনীয়তা ও যত্ন নেওয়ার উপায় সম্পর্কে জেনেছ। পোশাকের যত্নের অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হচ্ছে পোশাক সংরক্ষণ। অব্যবহৃত জামা কাপড় উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখলে পোকামাকড়, ধুলাবালি ও জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু পোশাক একটি ব্যয়বহুল সামগ্রী, তাই যথাযথভাবে এগুলো সংরক্ষণ না করলে পোশাকের আয়ু কমে যায় এবং অর্থেরও অপচয় ঘটে। তাই পোশাক যেন সুন্দর ও পরিপাটি রাখা যায় সেজন্য তোমাকে নিচের বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ রাখতে হবে-
১. পোশাক-পরিচ্ছদ পরিষ্কার করে ধোওয়া ও ভালোভাবে শুকানোর পর সংরক্ষণ করতে হবে। ধোওয়ার সময় পোশাকটি কোন তন্তুর তৈরি তা খেয়াল রাখতে হবে। কারণ একেক তন্তুর বস্ত্র ধোওয়ার পদ্ধতি একেক রকম। যেমন-
ক) সুতি ও লিনেন বস্ত্রের পোশাক একসাথে ধোওয়া যেতে পারে। পরিষ্কার করার জন্য সাবান, সোডা, রিঠার পানি, ক্লোরিন, ডিটারজেন্ট ইত্যাদি ব্যবহার করা যায়। উন্নতমানের সুতি, লিনেন বস্ত্রের পোশাকের ক্ষেত্রে মৃদু গুঁড়া সাবান ব্যবহার করতে হবে। সাদা কাপড়কে আরো ধবধবে করার জন্য নীল দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে এরূপ বস্ত্রে মাড় দেওয়া যায়। এ ধরনের বস্ত্রে গরম পানি ব্যবহার করলেও ক্ষতি নেই। রোদে শুকালে ভালো হয়। তবে রঙিন বস্ত্র ছায়ায় শুকানো উচিত।
খ) রেশমি পোশাক হালকা গরম পানির সাথে মৃদু সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করে ধুতে হয়। এরূপ বস্ত্রাদির পোশাক খুব চাপ দিয়ে ধোওয়া উচিত না। আলতোভাবে ধুয়ে ছায়ায় শুকাতে দিতে হয়। পশমি বস্ত্রেও হালকা গরম পানির সাথে মৃদু সাবান ব্যবহার করতে হয়। তবে শুকানোর সময় হ্যাঙ্গারে না ঝুলিয়ে সমতলে বিছাতে হয়। নতুবা এদের আকৃতি পরিবর্তন হয়ে যাবে। রেশমি ও পশমি বস্ত্রের পোশাক কখনও মোচড় দিয়ে নিংড়ানো যাবে না।
২. সুতি ও লিনেন বস্ত্রাদির পোশাক দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণ করতে হলে মাড় দিবে না, এতে করে পোকামাকড়ের উপদ্রব হতে পারে।
৩. সিল্ক কাপড়ের পোশাক ধুয়ে ইস্ত্রি করে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখতে হয়। ইস্ত্রি করার সময় তোমাকে বিশেষ কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। যেমন-
ক) সুতি ও লিনেন বস্ত্রাদির পোশাক হালকা ভেজা থাকতে ইস্ত্রি করতে হয়। কাপড়টি যদি শুকিয়ে যায় তাহলে পানির ছিটা দিয়ে তন্তু নরম করে নিতে হয়।
খ) রেশমি-পশমি বস্ত্রের উপর পাতলা একটি ভেজা কাপড় রেখে হালকা চাপ ও তাপে ইস্ত্রি করতে হবে।

গ) যেকোনো পোশাকই ইস্ত্রি করার সময় তোমাদের ভাঁজের কৌশলের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ হাতার ভাঁজ বা পোশাকের চূড়ান্ত ভাঁজ যদি সঠিক না হয় তাহলে সম্পূর্ণ পোশাকটির সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে।
ঘ) ইস্ত্রি করার পর সাথে সাথে আলমারিতে সংরক্ষণ না করে বাতাসে কিছুক্ষণ উন্মুক্ত অবস্থায় রাখতে হবে। নতুবা তিলা পরার আশঙ্কা থাকে।
8. পশমি বস্ত্রের পোশাক ধোওয়ার প্রয়োজন না থাকলে রোদে শুকিয়ে ভাঁজ করে রাখতে হয়।
৫. পোশাক সংরক্ষণের স্থানটিতে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে স্থানে রাখলে পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
৬. সংরক্ষণের আগে সংরক্ষণের স্থানটি ঝেড়ে-মুছে পরিষ্কার করে কীটনাশক দিয়ে স্প্রে করে নিলে ভালো হয়।
৭. দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণ করতে হলে কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে ন্যাপথলিন, কালিজিরা, মথবল, শুকনো নিমপাতা ইত্যাদি দিতে হবে।
৮. বর্ষা ঋতুর আগে ও পরে সংরক্ষিত কাপড়গুলো রোদে ভালো করে মেলে শুকিয়ে নিলে অনেকদিন যাবত কাপড় ভালো থাকে।
| কাজ-১ মৌসুম অনুযায়ী কোন তন্তুর পোশাক কিভাবে সংরক্ষণ করবে তার উপর ভিত্তি করে একটি চার্ট দলগতভাবে উপস্থাপন করো। কাজ-২ শ্রেণিকক্ষে ইস্ত্রির ভাজ করার কৌশল উপস্থাপন করো। |
১. পোশাকের যত্নকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
ক. এক
খ. দুই
গ. তিন
ঘ. চার
২. কোন ধরনের তন্তুর পোশাকগুলো একসাথে ধোওয়া যায়?
ক. সুতি ও লিনেন
খ. লিনেন ও রেশমি
গ. সুতি ও পশমি
ঘ. রেশমি ও পশমি
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং ৩ নং ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
জেবা আলমারিতে তুলে রাখার জন্য তার সুতি শাড়িগুলো ধুয়ে মাড় না দিয়ে হালকা ভেজা থাকতেই ইস্ত্রি করল।
৩. জেবা হালকা ভেজা থাকতেই শাড়িগুলো ইস্ত্রি করল কেন?
ক. বিদ্যুৎ খরচ বাঁচাতে
খ. কাপড়ের আকৃতি ঠিক রাখতে
গ. তন্তু নরম রাখতে
ঘ. কাপড়ের গরম ভাব দূর করতে
৪. জেবা শাড়িতে মাড় না দেওয়ার কারণ-
i. দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা
ii. পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা
iii. সময় বাঁচানো
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সৃজনশীল প্রশ্ন
১. লাবণ্য শীতের শেষে তার সোয়েটার জ্যাকেট মোজা মাফলার ধুয়ে শুকিয়ে আলমারিতে তুলে রাখল। একদিন বেড়াতে যাওয়ার জন্য তার সিল্কের জামাটি আলমারি থেকে বের করে দেখল জামাটি পোকায় কেটেছে।
ক. রঙিন পোশাক কোথায় শুকানো উচিত?
খ. পোশাকের যত্ন বলতে কী বোঝায়?
গ. লাবণ্য তার শীতের পোশাকগুলোর কোন ধরনের যত্ন নিল? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবেই লাবণ্যর জামাটি নষ্ট হয়েছে। বুঝিয়ে লেখো।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
জুসিয়া তার বাচ্চাদের জামা নিজেই তৈরি করেন। তবে জামা তৈরি করার সময় চূড়ান্ত সেলাইয়ের আগে ভিন্ন একটি ফোঁড় ব্যবহার করে সেলাই করেন।
ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী লিমার বড় বোন কলেজে পড়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি সে নিজের পোশাক নিজেই তৈরি করে। বোনের কর্মদক্ষতায় তার মা-বাবা খুব খুশি। বন্ধুরাও তার তৈরি পোশাকের যথেষ্ট প্রশংসা করে। লিমাও তার বোনের মতো কাজ করতে চায়। কিন্তু লিমার মা জানান যে, এখন তার জন্য যা প্রয়োজন তা হচ্ছে, সেলাইয়ের কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা। পোশাক তৈরির কাজে বিভিন্ন ধরনের ছোট বড় সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। এসব সরঞ্জাম ছাড়া পোশাক তৈরি করা সম্ভব হয় না। সেলাইয়ের সাজ-সরঞ্জাম যদি হাতের কাছে থাকে তবে কাজ করতে সুবিধা হয়, সময় বাঁচে ও বিরক্তি আসে না।
সেলাইয়ের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের মধ্যে সবচেয়ে প্রধান হলো সেলাই মেশিন। মানুষের কল্যাণে আজ পর্যন্ত যেসব যন্ত্রপাতি আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে সেলাই মেশিন অন্যতম।

সেলাইয়ের অন্যান্য সাজ-সরঞ্জামের তুলনায় এই মেশিন বেশ বড় এবং এর দামও বেশি। বাজারে সাধারণত তিন ধরনের সেলাই মেশিন পাওয়া যায়, যেমন- হাত মেশিন, পা মেশিন ও বৈদ্যুতিক মেশিন। এসব মেশিনের সাহায্যে অনেক সুন্দর সুন্দর বৈচিত্র্যময় পোশাক ও গৃহসজ্জার সামগ্রী সেলাই করা যায়।
(১) হাত মেশিন- হাত মেশিন চালাতে বিদ্যুৎশক্তির প্রয়োজন হয় না। বাম হাত দিয়ে কাপড় ধরে, ডান হাত দিয়ে হাতল ঘুরিয়ে সেলাই কাজ করতে হয়। অন্যান্য মেশিনের তুলনায় এই মেশিনের দাম কম এবং যত্ন নেওয়াও সহজ।
(২) পা মেশিন- এই মেশিন চালাতেও বিদ্যুৎশক্তির প্রয়োজন হয় না। পায়ের চাপের সাহায্যে প্যাডেল নাড়াচাড়া করে এই মেশিন চালানো হয়। এই মেশিন ব্যবহারের সময় আমরা দুই হাতের সাহায্যেই কাপড় নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। হাত মেশিনের মতো এই মেশিনেরও যত্ন নেওয়া সহজ।

(৩) বৈদ্যুতিক মেশিন- এই মেশিনে বিদ্যুৎশক্তির সাহায্যে অল্প পরিশ্রমে অনেক কাপড় সেলাই করা যায়। অন্যান্য মেশিনের তুলনায় এই মেশিনের দাম বেশি হলেও চালানোর মতো জ্ঞান থাকলে বিভিন্ন ধরনের সেলাইয়ের কাজ তা দিয়ে করা যায়। এই মেশিন ব্যবহার ও যত্ন নেওয়ার সময় দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

| কাজ-১ বিভিন্ন ধরনের মেশিনের সুবিধা-অসুবিধাগুলোর পার্থক্য উল্লেখ করো। |
সেলাই মেশিন ছাড়া সেলাই কাজে আনুষঙ্গিক আরও নানারকম সরঞ্জামের দরকার হয়। ব্যবহার অনুযায়ী এগুলোকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়। এ সম্পর্কে পরবর্তী পাঠে আলোচনা করা হলো।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
আমেনা সংসারের কাজের ফাঁকে সেলাই এর কাজ করেন। এর ফলে তিনি পরিবারের পোশাক তৈরি করা ছাড়াও কিছু উপার্জন করেন।
(ক) মাপ নেওয়ার সরঞ্জাম
যে কোনো সুন্দর মানানসই ফিটিং পোশাকের পূর্বশর্ত হচ্ছে সঠিকভাবে পরিধানকারীর দেহের মাপ নেওয়া। এই মাপের উপর ভিত্তি করে পোশাকের নকশা আঁকা হয়। দেহের বিভিন্ন অংশের মাপ নেওয়ার জন্য কিছু সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। যেমন- মাপের ফিতা, স্কেল, গজ কাঠি ইত্যাদি।

(খ) কাটার সরঞ্জাম
উপযুক্ত সরঞ্জাম ছাড়া কোনো কাপড়ই সুন্দরভাবে কাটা যায় না। সুন্দরভাবে কাটা না গেলে পোশাকের নকশাও ঠিকমতো ফুটে ওঠে না। কাপড় ছাঁটার জন্য মাঝারি ধরনের ধারালো কাঁচি, সুতা কাটার জন্য ছোট কাঁচি এবং পোশাক প্রস্তুতের পর পোশাকের প্রান্তধার কাটার জন্য পিংকিং শিয়ার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া সেলাই খোলার জন্য বডকিন এবং বোতাম ঘর কাটার জন্য বিশেষ ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।
উপযুক্ত সরঞ্জাম ছাড়া কোনো কাপড়ই সুন্দরভাবে কাটা যায় না। সুন্দরভাবে কাটা না গেলে পোশাকের নকশাও ঠিকমতো ফুটে ওঠে না। কাপড় ছাঁটার জন্য মাঝারি ধরনের ধারালো কাঁচি, সুতা কাটার জন্য ছোট কাঁচি এবং পোশাক প্রস্তুতের পর পোশাকের প্রান্তধার কাটার জন্য পিংকিং শিয়ার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া সেলাই খোলার জন্য বডকিন এবং বোতাম ঘর কাটার জন্য বিশেষ ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।

(গ) দাগ দেওয়ার সরঞ্জাম
পোশাকের নকশা আঁকা ও নকশার বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় দাগ বা মাপের চিহ্ন দেওয়ার জন্য কিছু সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। যেমন- পেন্সিল, টেইলারিং চক, কার্বন পেপার, বিভিন্ন রঙের সুতা, দাগ মোছার জন্য রাবার ইত্যাদি।

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নীলা একজন সফল 'বুটিক শপের মালিক। তিনি পোশাক তৈরিতে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ব্যবহার করেন। তার বুটিক শপের পোশাক ক্রেতাদের নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয়।
মিতা 'ভালো সেলাই করতে পারে। সে বাড়ির প্রয়োজন মিটিয়ে সেলাই করে অর্থ উপার্জন করে। তার বোন মিতার-কাছ থেকে সেলাই শিখতে চায়। মিতা. তাকে বিভিন্ন উপকরণের সাথে পরিচয় করিয়ে দিল এবং সঠিকভাবে মাপ নিতে বলল।
(ক) চাপ দেওয়ার সরঞ্জাম
পোশাকের বিভিন্ন অংশ ছাঁটার আগে ও সেলাই করার পর তাদের আকৃতি সঠিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য ইস্ত্রি করা বা চাপ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। পোশাকের বিভিন্ন অংশ যেমন- কলার, পকেট, বোতাম পট্টি, প্রভৃতি তৈরির পর ভালোভাবে ইস্ত্রি করে নিলে আকৃতি সুন্দর ও পরিপাটি হয়। এরপর অন্য অংশের সাথে সেলাই জুড়ে দিলে সম্পূর্ণ পোশাকটি দেখতে সুন্দর হয়। চাপ দেওয়ার জন্য সাধারণত সঠিক ওজনের ইস্ত্রি, সঠিক উচ্চতার টেবিল দরকার হয়।

(খ) হাতে সেলাই করার সরঞ্জাম
একটি পোশাক সেলাই করার সময় যদিও এর বেশির ভাগ অংশ মেশিনে সেলাই করতে হয়, তবুও বেশ কিছু অংশ পরিপাটিভাবে সমাপ্ত করার জন্য হাতে সেলাই করতে হয়। হাতে সেলাই করার জন্য ছোট বড় নানা সাইজের সুচ, নানা রঙের সুতা, ফ্রেম, ছোট কাঁচি ইত্যাদি প্রয়োজন হয়।

সেলাইয়ের সরঞ্জামগুলোকে খুব যত্নের সাথে একটি বাক্সে রাখলে ভালো হয়। এগুলো গোছানো থাকলে প্রয়োজনে সহজেই পাওয়া যায় এবং এগুলোর সাহায্যে হাতের কাজ খুব ভালোভাবে করা যায়।
| কাজ- ৩ পোশাক তৈরির সময় কোন কোন সরঞ্জাম প্রয়োজন তার একটি তালিকা তৈরি করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পূর্বের পাঠে তোমরা সেলাই কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছ। এই পাঠে তোমরা সামান্য সুচ সুতা দিয়ে অতি সাধারণ একটি কাপড়কে কীভাবে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করা যায়, সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। অর্থাৎ এই পাঠে তোমরা বিভিন্ন ফোঁড়ের মাধ্যমে সুচিশিল্পের দক্ষতা অর্জন করবে। এ কাজ করার সময় তোমাকে কিছু বিষয় মনে রাখতে হবে। যেমন-
(ক) নকশাটি যেন কাপড়ের উপর ফুটে ওঠে সেদিকে লক্ষ রেখে কাপড় নির্বাচন করতে হবে।
(খ) সঠিক স্থানে সঠিক রঙের সুতা ব্যবহার করতে হবে।
(গ) এমব্রয়ডারি করার সময় চিকন সুচ ব্যবহার করতে হবে।
(ঘ) কাপড় যেন কুঁচকে না যায় সেদিকে লক্ষ রেখে সুতার টান ঠিক রাখতে হবে।
(ঙ) নকশা অনুসারে বিভিন্ন ধরনের ফোঁড়ের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে।
(চ) চর্চার মাধ্যমে নিখুঁত ফোঁড় সৃষ্টির চেষ্টা করতে হবে।
হাতের সাহায্যে সুচ সুতা দিয়ে কিভাবে একটি কাপড়ে বিভিন্ন ধরনের ফোঁড় সৃষ্টি করা যায় এ সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো-
রান ফোঁড়
সুতাসহ সুচ কাপড়ের নকশার মধ্যে ঢুকিয়ে কয়েকবার উপর নিচ করে ছোট ছোট ফোঁড় দিয়ে বের করে এনে রান ফোঁড় সম্পন্ন করা হয়। ফোঁড়গুলো সর্বত্র প্রায় সমান আকৃতির হতে হয়। এটা সবচেয়ে সহজ ফোঁড়। এই ফোঁড়ের সাহায্যে সাধারণ পোশাক তৈরি করা ছাড়াও নকশিকাঁথা, কুশন কভার, সোফা ব্যাক ইত্যাদি নকশা সেলাই করতে পারবে।

| কাজ- ১ সুচে সুতা ভরে গিঁট দাও এবং একটি কাপড়ে রান ফোঁড়ের মাধ্যমে নকশা তৈরি করো। |
| টাক দুই বা ততোধিক কাপড়ের টুকরা সাময়িকভাবে জোড়া দিতে রান ফোঁড়ের চেয়ে বড় বড় যে সেলাই অস্থায়ীভাবে করা হয় তাকে টাক সেলাই বলে। মেশিনে চূড়ান্ত সেলাই দেওয়ার পর এই টাক সেলাই খুলে ফেলতে হয়। | ![]() | ![]() |
টাক সেলাই
| কাজ- ২ সুচে সুতা ভরে গিট দাও এবং একটি কাপড়ে টাক সেলাইয়ের চর্চা করো। |
বখেয়া ফোঁড়
বখেয়া সেলাই করার সময় প্রথমে কাপড়ে সুতা আটকিয়ে সুচকে একটু পেছনে এনে আর একটি ফোঁড় দিতে হবে। এই দ্বিতীয় ফোঁড়ে সুচের অগ্রভাগ প্রথম ফোঁড় থেকে একটু সামনে উঠবে। পরবর্তী ফোঁড়ও একইভাবে তুলতে হয়, তবে প্রথম ফোঁড় যেখানে শেষ হয়েছে ঠিক সেখানেই সুচ তুলতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি ফোঁড় পরস্পরের গায়ে লেগে থাকে। এই ফোঁড় বেশ মজবুত হয় এবং সোজা দিক দেখতে মেশিনের সেলাইয়ের মতো হয়। এই ফোঁড়ের উল্টোদিক ডাল ফোঁড়ের মতো দেখায়। নকশার ধার, গাছের ডাল, পাতা প্রভৃতিতে নকশার জন্য এই ফোঁড় ব্যবহার করা হয়।

| কাজ - ৩ বখেয়া ফোঁড়ের সাহায্যে একটি কাপড়ে ডিজাইন তৈরি করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
লাইজু সেলাই প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। আজ সে এমন একটি সেলাইয়ের ফোঁড় শিখেছে যা সোজা দিক থেকে দেখতে মেশিনের সেলাইয়ের মতো মনে হয়। এর প্রতিটি ফোঁড় পরস্পরের গায়ে লেগে থাকে।
হেম
গলায়, হাতের মুড়িতে, জামা বা ব্লাউজের নিচের ধারে, ট্রে ক্লথ, টেবিল ক্লথ ও রুমালের কিনারায় কাপড় ভাঁজ করে এই ফোঁড় ব্যবহার করা হয়। কাপড়ের উল্টো দিকে হেম সেলাই করা হয়। এই ফোঁড় দিতে হলে সুচে সুতা ভরে নিচের চিত্রের ন্যায় মূল কাপড়ে ছোট্ট একটি ফোঁড় দিয়ে ভাঁজ করা কাপড়ে তেরছাভাবে আর একটি ফোঁড় তুলে আনতে হয়।

| কাজ-১ একটি ট্রে ক্লথের কিনারায় কাপড় ভাঁজ করে হেম ফোঁড়ের সাহায্যে সেলাই করো। |
চেইন ফোঁড়
দেখতে শিকলের মতো হয় বলে একে চেইন ফোঁড় বলে। এ সেলাই করতে প্রথমে কাপড়ের পেছন থেকে সুতা তুলে সুচ দিয়ে বাম দিকে একটি ফোঁড় তোলা হয় এবং সুতা দিয়ে সুচের ঠিক আগায় একটি ফাঁস তৈরি করা হয়। তারপর সুচ টেনে বের করতে হয়। পরের বার ফোঁড় ওঠাবার সময় ঠিক আগের ফোঁড়ের মধ্য থেকে ওঠাতে হবে। নকশার কিনারা, ডাল, পাতা প্রভৃতি তৈরির কাজে এই ফোঁড় ব্যবহার করা হয়।

| কাজ- ২ চেইন ফোঁড়ের সাহায্যে নকশার কিনারা ফুটিয়ে তোলো। |
লেজি ডেজি ফোঁড়
| একটি বড় চেইন ফোঁড় তৈরি করে তার উপরের অংশে একটি ছোট ফোঁড় দিয়ে কাপড়ের সাথে আটকে দিলে লেজি ডেজি ফোঁড় তৈরি হয়। বিভিন্ন নকশায় ছোট ফুলের পাপড়ি এবং পাতা তৈরি করতে এই ফোঁড় ব্যবহার করা হয়। | ![]() |
| লেজি ডেজি ফোঁড় |
| কাজ-৩ লেজি ডেজি ফোঁড়ের সাহায্যে ফুলের নকশা তৈরি করো। |
ডাল ফোঁড়
এই সেলাই করার জন্য প্রথমে সুচকে কাপড়ের নিচ থেকে উপরের দিকে তুলবে। প্রথম ফোঁড়ে সুচের অগ্রভাগ যেখানে উঠবে সেখান থেকে দুই তিনটি সুতা ছেড়ে দিয়ে একটু বাঁকা করে দ্বিতীয় ফোঁড়টি তুলতে হবে। পরবর্তী ফোঁড়গুলো এভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। এই ফোঁড় দেখতে অনেকটা গাছের ডালের সঙ্গে জড়ানো লতার মতো হওয়ায় ডাল-পালার নকশা ফুটিয়ে তুলতে এই ফোঁড় ব্যবহার করতে পার।

| কাজ-৪ একটি কাপড়ে ডাল ও পাতার ছবি এঁকে ডাল ফোঁড় প্রয়োগ করো। |
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
তমা সুচি কর্মের সাহায্যে তার পোশাকে বিভিন্ন নকশা তৈরি করে। সে চেইন, লেজি ডেজি ও ডাল ফোঁড় বেশি ব্যবহার করে থাকে।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. দেহের মাপ নেওয়ার জন্য কোন সরঞ্জামটি ব্যবহার করা হয়?
ক. ট্রেসিং হুইল
খ. সিম রোল
গ. মাপের ফিতা
ঘ. টেইলারিং চক
২. ফ্রকের প্রান্তধার মুড়িয়ে সেলাই করতে কোন ফোঁড় ব্যবহার করা হয়?
ক. রান
খ. হেম
গ. বখেয়া
ঘ. টাক
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং ৩ নং ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
জুলিয়া তার বাচ্চাদের জামা নিজেই তৈরি করেন। তবে জামা তৈরি করার সময় চূড়ান্ত সেলাইয়ের আগে ভিন্ন একটি ফোঁড় ব্যবহার করে সেলাই করেন।
৩. জুলিয়া কোন ফোঁড়টি ব্যবহার করে?
ক. রান
খ. টাক
গ. হেম
ঘ. চেইন
8. জুলিয়া পোশাক সেলাইয়ের সময় ভিন্ন একটি ফোঁড় ব্যবহার করেন। কারণ-
i. পোশাকের মাপ ঠিক করা
ii. পোশাকটি আকর্ষণীয় করা
খরচ বাঁচানো
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সৃজনশীল প্রশ্ন
১. পোশাক সেলাইয়ের কাজ করে রুমাকে সংসার চালাতে হয়। সে একটি হাত মেশিন, কাঁচি ও গজ ফিতা দিয়ে এ কাজ করে। বুটিক শপের জন্য দোকানিরা তার তৈরি পোশাকগুলোর কলার, কাফ, পকেট, প্লিট, বোতাম ঘর ইত্যাদির ফিনিশিং দেখে সন্তুষ্ট না হয়ে পোশাকগুলো ফেরত দেয়। এ ছাড়াও পাড়ার লোকদের অর্ডার সঠিক সময়ে বুঝিয়ে দিতে না পেরে রুমা চিন্তিত হয়ে পড়ে।
ক. পিং কিং শিয়ারের কাজ কী?
খ. পোশাকে দাগ দেওয়ার সরঞ্জাম বলতে কী বোঝায়?
গ. সেলাই কাজের জন্য রুমার মেশিনটি নির্বাচন কি সঠিক হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উপযুক্ত সরঞ্জামের অভাবেই রুমা লাভবান হতে পারছে না। বুঝিয়ে লেখো।
২. নিরুপমা কিছুদিন হলো সুচি শিল্পের কাজ শিখেছে। তাই সে রুমালে সুচি কাজ করবে বলে ঠিক করল। রুমালের এক কোনায় ডালসহ একটি ফুলের নকশা এঁকে টাক ও হেম সেলাই দিয়ে নকশাটি করল। সেলাই শেষে দেখা গেল নকশাটি কুঁচকে আছে। রুমালটিও ছিদ্র হয়ে গেছে।
ক. বডকিন কোন কাজে ব্যবহার করা হয়?
খ. পরিধানকারীর দেহের মাপ নেওয়া বলতে কী বোঝায়?
গ. নিরুপমা রুমালের নকশায় সঠিক ফোঁড় ব্যবহার করেছে কি না? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনুসরণ না করায় নিরুপমার রুমালের নকশাটি নষ্ট হলো। আলোচনা করো।
Read more


